পশ্চিমবঙ্গ কর্মসংস্থান ব্যবসা বাণিজ্য টেক নিউজ স্কলারশিপ সরকারি প্রকল্প

Yuva Shakti Bekar Bhata: যুবশক্তি বেকার ভাতায় এক্সচেঞ্জ কার্ড কি লাগবেই? জানুন আবেদন নিয়ম ও আসল সত্য

প্রতিবেদন: Pallabi Roy

প্রকাশিত:

রাজ্যের কর্মহীন ও শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীদের স্বনির্ভর করার উদ্দেশ্যে রাজ্যে চালু হতে যাচ্ছে ‘যুবশক্তি ভরসা কার্ড’। অন্নপূর্ণা যোজনা সহ আরো বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্পের পর এবার যুবক ও যুবতী—সবার জন্যই মাসিক নির্দিষ্ট আর্থিক ভাতার ঘোষণা বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে। তবে আবেদনের জল্পনা শুরু হতেই চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে বড় সংশয় দেখা দিয়েছে—আগের মতো এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ কার্ড (Employment Bank) থাকা কি এই নতুন প্রকল্পের ক্ষেত্রেও বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে? কারা কারা আবেদন জানাতে পারবেন এবং কবে থেকে আবেদন হবে বিস্তারিত জানতে পারবেন আজকের এই প্রতিবেদনে।

এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ কার্ড কি সত্যিই বাধ্যতামূলক?

অতীতে চালু থাকা ‘যুবশ্রী’ প্রকল্পের ক্ষেত্রে প্রতি মাসে দেড় হাজার টাকা ভাতা পেতে এমপ্লয়মেন্ট ব্যাংকে নাম নথিভুক্ত থাকা এবং এক্সচেঞ্জ কার্ড থাকা বাধ্যতামূলক ছিল। তবে সরকার পরিবর্তন হওয়ার পরে নতুন সরকার আরো নতুন নতুন নিয়ম নিয়ে আসছে। তাই তবে বর্তমান যুবশক্তি প্রকল্পের ক্ষেত্রে আবেদন করতে এক্সচেঞ্জ কার্ড লাগবে কি না, সে বিষয়ে সরকার এখনও পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত গেজেট বা অফিশিয়াল নির্দেশিকা জারি করেনি। অফিশিয়াল বিজ্ঞপ্তি জারি করলে বিস্তারিতভাবে সম্পূর্ণ বিষয়টি জানা যাবে যে এই নিয়ম বহাল থাকবে নাকি সাধারণ আবেদনের সুযোগ দেওয়া হবে। তাই এক্সচেঞ্জ কার্ড না থাকলেও এখনই অযথা আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।

শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুযায়ী কত টাকা মিলবে?

প্রস্তাব অনুযায়ী, শিক্ষাগত যোগ্যতার ভিত্তিতে দুটি আলাদা ধাপে মাসিক ভাতার অঙ্ক নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে:

  • মাধ্যমিক ও সমতুল্য উত্তীর্ণ: নূন্যতম মাধ্যমিক পাশ থেকে শুরু করে কলেজ স্তরের নিচের প্রার্থীরা প্রতি মাসে পাবেন ২,০০০ টাকা।
  • স্নাতক বা উচ্চতর ডিগ্রিধারী: অনুমোদিত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি পাশ প্রার্থীরা প্রতি মাসে পাবেন ৩,০০০ টাকা।
  • বয়সসীমা: প্রাথমিক আলোচনা অনুযায়ী বয়স ২১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে (যদিও বয়সের চূড়ান্ত ঊর্ধ্বসীমা সরকারি বিজ্ঞপ্তিতেই নির্ধারিত হবে)।
  • যোগ্যতা: অন্তত মাধ্যমিক বা তার সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া আবশ্যক।
  • নাগরিকত্ব: এখানে আবেদন জানাতে হলে অবশ্যই তাকে পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।

আবেদনের জন্য কোন কোন নথি আগে থেকেই গুছিয়ে রাখবেন?

ভবিষ্যতে পোর্টাল চালু হলে যাতে আবেদনের সময় কোনো জটিলতা না হয়, তার জন্য জরুরি কিছু কাগজপত্র প্রস্তুত রাখা ভালো:

  • পরিচয়পত্র হিসেবে সচল আধার কার্ড ও ভোটার কার্ড।
  • বয়সের প্রমাণপত্র (ডিজিটাল বার্থ সার্টিফিকেট অথবা মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড)।
  • শিক্ষাগত যোগ্যতার সমস্ত আসল মার্কশিট ও সার্টিফিকেট।
  • স্থায়ী ঠিকানার প্রমাণ ও সাম্প্রতিক ইনকাম সার্টিফিকেট।
  • কাস্ট সার্টিফিকেট (যদি প্রযোজ্য হয়)।
  • সরাসরি ব্যাংক ট্রান্সফারের জন্য নিজের নামের সচল ব্যাংক পাসবই এবং পাসপোর্ট সাইজ ছবি।

কবে এবং কীভাবে আবেদন করা যাবে?

এখনও পর্যন্ত এই প্রকল্পের কোনো নির্দিষ্ট অনলাইন লিংক বা আবেদনপত্র ছাড়া হয়নি। তবে এটি অনলাইন বা অফলাইন দুটো পদ্ধতির টাই আবেদন হতে পারে বলে জানা গিয়েছে। পুজো বা তার পরবর্তী সময়ে এই বিষয়ে সরকারি নির্দেশিকা আসার সম্ভাবনা রয়েছে। অক্টোবর মাসে এর চূড়ান্ত নির্দেশিকা আসার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সরকারের নির্দেশিকা না আসা পর্যন্ত আপনারা কোন গুজবে কান দেবেন না। এক্ষেত্রে অবশ্যই প্রয়োজনীয় সমস্ত নথিপত্র আগে থেকেই রেডি করে রাখতে পারেন যাতে পরবর্তীতে সমস্যা না হয়।

Leave a Comment