পশ্চিমবঙ্গ কর্মসংস্থান ব্যবসা বাণিজ্য টেক নিউজ স্কলারশিপ সরকারি প্রকল্প

VB G RAM G Scheme: দিনে ৩০০ টাকা মজুরি ও ১২৫ দিনের কাজ! নতুন জব কার্ডের আবেদনের নিয়ম জেনে নিন

প্রতিবেদন: Pallabi Roy

প্রকাশিত:

গ্রাম অঞ্চলের মানুষের জন্য বিশেষ করে শ্রমজীবী ও খেটে খাওয়া মানুষদের এবার বিশেষ সুযোগ দিচ্ছে রাজ্য সরকার। গ্রামাঞ্চলের শ্রমজীবী মানুষের কাজের নিশ্চয়তা দিতে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে মজবুত করতে দেশজুড়ে কার্যকর হয়েছে নতুন গ্রামীণ কর্মসংস্থান কর্মসূচি—‘ভিবি জি রামজি’ (VB-G-RAM-G) বা বিকশিত ভারত গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন (গ্রামীণ)। পুরনো ১০০ দিনের কাজের কাঠামোর জায়গায় এই ব্যবস্থা চালু হওয়ার পর থেকেই নতুন জব কার্ড তৈরি ও কাজের সুযোগ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আগ্রহ বাড়ছে। এই নিয়ে গ্রাম পঞ্চায়েতে আবারো নতুন করে শুরু হয়েছে জব কার্ড তৈরি। এই প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রামীণ তরুণ-তরুণী ও শ্রমিকদের জন্য নিশ্চিত কাজের সুযোগ এবং সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে মজুরি পাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই কার্ড থাকলে প্রতিদিন ৩০০ টাকা করে পাওয়া যাবে। তবে কিভাবে আপনারা এই টাকা পাবেন এবং এই টাকা পেতে গেলে কি করতে হবে চলুন জেনে নেওয়া যাক বিস্তারিত।

কত টাকা মজুরি এবং বছরে কত দিন কাজ মিলবে?

নতুন এই কাঠামোর আওতায় মজুরি এবং কাজের দিনে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে:

  • দৈনিক ৩০০ টাকা মজুরি: অদক্ষ শ্রমিকদের ক্ষেত্রে দৈনিক ৩০০ টাকা হারে মজুরি ধার্য করা হয়েছে, যা সরাসরি তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা পড়বে। এক্ষেত্রে আপনার আগে থেকে দক্ষতা থাকতে হবে না। তবে আপনার যদি কাজের দক্ষতা থাকে অর্থাৎ আধা-দক্ষ ও দক্ষ কর্মীদের ক্ষেত্রে মজুরির হার তুলনামূলকভাবে আরও বেশি।
  • বছরে ১২৫ দিনের কাজের গ্যারান্টি: আগে যেখানে বছরে ১০০ দিনের কাজের সুযোগ থাকত, এখন তা বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ১২৫ দিন করা হয়েছে। এর ফলে আপনার বছরে আরও বেশি দিন কাজের সুযোগ পাবেন।
  • বার্ষিক আয়ের সুযোগ: কোনো শ্রমিক পুরো ১২৫ দিন কাজ পেলে বছরে সর্বোচ্চ ৩৭,৫০০ টাকা পর্যন্ত উপার্জনের সুযোগ পাবেন।
  • এক কার্ডেই পরিবারের সুবিধা: একটি জব কার্ডের আওতায় পরিবারের একাধিক প্রাপ্তবয়স্ক সদস্য নাম নথিভুক্ত করে কাজের জন্য আবেদন করতে পারবেন। অর্থাৎ একই কাঠ থেকে পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য কাজের সুযোগ পাবেন।

আবেদন করার জন্য কী কী নথি লাগবে?

আবেদনকারী এবং পরিবারের যে সদস্যরা কার্ডে যুক্ত হবেন, প্রত্যেকের ক্ষেত্রেই নির্দিষ্ট কিছু নথিপত্রের পরিষ্কার জেরক্স কপি প্রয়োজন হবে:

  • আবেদনকারী ও সদস্যদের সচল পরিচয়পত্র (আধার কার্ড ও ভোটার কার্ড)।
  • নিজস্ব নামের ব্যাঙ্ক পাসবইয়ের প্রথম পাতার জেরক্স (যেখানে অ্যাকাউন্ট নম্বর ও IFSC কোড পরিষ্কার দেখা যায়)।
  • তপশিলি জাতি, উপজাতি বা ওবিসি শ্রেণিভুক্ত হলে জাতিগত শংসাপত্র (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)।
  • সাম্প্রতিক তোলা পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি।

কীভাবে করবেন আবেদন?

এই প্রকল্পের আওতায় নতুন জব কার্ড তৈরি করার পদ্ধতিটি অত্যন্ত সহজ ও সরাসরি। এক্ষেত্রে আপনারা জনকল্যাণ শিবিরে গিয়েও এই কার্ডের জন্য আবেদন জানাতে পারবেন। রাজ্যজরের 2 তারিখ থেকে 4 তারিখ পর্যন্ত শুরু হচ্ছে জনকল্যাণ শিবির। কিভাবে আবেদন জানাবেন চলুন জেনে নেওয়া যাক:

  1. ফর্ম সংগ্রহ: স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত কার্যালয়, বিডিও (BDO) অফিস কিংবা রাজ্যজুড়ে চলা ‘জনকল্যাণ শিবির’ (সেবা সেতু ক্যাম্প) থেকে আবেদনপত্র সংগ্রহ করা যাবে।
  2. তথ্য পূরণ: ফর্মে আবেদনকারীর ব্যক্তিগত বিবরণ, স্থায়ী ঠিকানা, পরিবারের প্রধানের নাম এবং কার্ডে নাম তুলতে চাওয়া পরিবারের অন্যান্য প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যদের তথ্য (নাম, বয়স, পরিচয়পত্র ও ব্যাঙ্ক বিবরণ) নির্ভুলভাবে লিখতে হবে। এক্ষেত্রে যার যার নাম কার্ডে তুলবেন তাদের প্রত্যেকের ডকুমেন্টস রেডি করে রাখবেন।
  3. ফর্ম জমা ও রসিদ সংগ্রহ: প্রয়োজনীয় সমস্ত নথিপত্রের জেরক্স সংযুক্ত করে পূরণ করা ফর্মটি সংশ্লিষ্ট পঞ্চায়েত বা সরকারি ক্যাম্পে জমা দিতে হবে। জমা দেওয়ার পরে আপনারা অবশ্যই রিসিভ কপি সংগ্রহ করে নেবেন।

ফর্ম জমা নেওয়ার পর আধিকারিকদের তরফ থেকে একটি সিলমোহরযুক্ত প্রাপ্তিস্বীকার রসিদ (Acknowledgment Slip) দেওয়া হয়। কার্ড তৈরি ও পরবর্তী ভেরিফিকেশনের জন্য এই রসিদটি যত্ন সহকারে নিজের কাছে রেখে দেওয়া প্রয়োজন। পরবর্তীকালে ভেরিফিকেশনের জন্য এই রশিদ প্রয়োজন হতে পারে বা আপনি যাচাই করে দেখতে পারবেন আপনার কার্ডের স্ট্যাটাস।

Leave a Comment