পশ্চিমবঙ্গের মেধাবী অথচ আর্থিকভাবে দুর্বল ছাত্রছাত্রীদের জন্য ফের বড় সুখবর। রাজ্যে আবার চালু হয়েছে স্বামী বিবেকানন্দ মেরিট-কাম-মিনস স্কলারশিপ (SVMCM Scholarship 2026)। নতুন সরকারের তরফে ঘোষণা করা হয়েছে, ধর্ম বা সম্প্রদায় নয়, এবার শুধুমাত্র মেধা ও আর্থিক অবস্থার ভিত্তিতেই পড়ুয়াদের স্কলারশিপ দেওয়া হবে। ফলে একাদশ শ্রেণি থেকে শুরু করে স্নাতকোত্তর স্তর পর্যন্ত হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে চলেছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান সময়ে উচ্চশিক্ষার খরচ যেভাবে বাড়ছে, সেখানে এই ধরনের স্কলারশিপ বহু পড়ুয়ার কাছে আশীর্বাদ হয়ে উঠতে পারে। কারণ এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতি মাসে ১,০০০ টাকা থেকে ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা মিলতে পারে।
কী এই Swami Vivekananda Scholarship?
স্বামী বিবেকানন্দ মেরিট-কাম-মিনস স্কলারশিপ বা SVMCM হল পশ্চিমবঙ্গ সরকারের একটি জনপ্রিয় শিক্ষা সহায়তা প্রকল্প। মূল উদ্দেশ্য হল মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের আর্থিক সমস্যার কারণে পড়াশোনা বন্ধ না হয়ে যায়।
এই প্রকল্পের মাধ্যমে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিভিন্ন পেশাদারি কোর্সে পড়াশোনা করা ছাত্রছাত্রীরা সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে স্কলারশিপের টাকা পান।
কারা আবেদন করতে পারবেন?
এই স্কলারশিপের জন্য আবেদন করতে গেলে কিছু গুরুত্বপূর্ণ যোগ্যতা পূরণ করতে হবে।
আবেদনের মূল যোগ্যতা
- আবেদনকারীকে অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে
- পরিবারের বার্ষিক আয় ২.৫ লক্ষ টাকার কম হতে হবে
- শেষ পরীক্ষায় ন্যূনতম ৬০% নম্বর থাকতে হবে
- স্বীকৃত স্কুল, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি থাকতে হবে
কোন কোন স্তরের পড়ুয়ারা আবেদন করতে পারবেন?
এই স্কলারশিপ শুধুমাত্র স্কুল স্তরের জন্য নয়। বিভিন্ন শিক্ষাস্তরের ছাত্রছাত্রীরা আবেদন করতে পারবেন।
যেসব কোর্স অন্তর্ভুক্ত
- একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি
- স্নাতক (UG)
- স্নাতকোত্তর (PG)
- ইঞ্জিনিয়ারিং
- মেডিক্যাল
- নার্সিং
- ফার্মেসি
- বিএড
- পিএইচডি
- UGC অনুমোদিত পেশাদারি কোর্স
কত টাকা স্কলারশিপ পাওয়া যাবে?
কোর্স অনুযায়ী স্কলারশিপের টাকার পরিমাণ আলাদা হবে।
| কোর্স | মাসিক স্কলারশিপ |
|---|---|
| আর্টস ও কমার্স | ₹১,০০০ |
| সায়েন্স | ₹১,৫০০ |
| পেশাদারি কোর্স | ₹২,০০০ থেকে ₹৫,০০০ |
| ইঞ্জিনিয়ারিং/মেডিক্যাল | আরও বেশি সহায়তা |
| গবেষণা (PhD) | বিশেষ আর্থিক অনুদান |
আবেদন কবে থেকে শুরু হবে?
জানা গিয়েছে, নতুন শিক্ষাবর্ষে স্কুল ও কলেজে ভর্তি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর থেকেই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। অর্থাৎ একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি ও কলেজের প্রথম বর্ষে ভর্তি সম্পূর্ণ হওয়ার পর অনলাইন আবেদন শুরু হবে।
কীভাবে আবেদন করবেন?
এই স্কলারশিপের আবেদন পুরোপুরি অনলাইন মাধ্যমে করা যাবে।
ধাপে ধাপে আবেদন পদ্ধতি
১. প্রথমে অফিসিয়াল পোর্টালে যান
২. নতুন আবেদনকারীদের জন্য Registration অপশনে ক্লিক করুন
৩. সমস্ত নির্দেশ ভালোভাবে পড়ুন
৪. নিজের শিক্ষাগত তথ্য ও ব্যক্তিগত তথ্য পূরণ করুন
৫. প্রয়োজনীয় নথি আপলোড করুন
৬. মোবাইল OTP দিয়ে ভেরিফিকেশন করুন
৭. ফর্ম সাবমিট করে প্রিন্ট কপি সংরক্ষণ করুন
আবেদন করতে কী কী নথি লাগবে?
আবেদনের সময় কিছু গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট আপলোড করতে হবে।
প্রয়োজনীয় নথিপত্র
- মাধ্যমিকের মার্কশিট
- আগের পরীক্ষার মার্কশিট
- ভর্তি রসিদ
- আয়ের শংসাপত্র
- আধার কার্ড / ভোটার কার্ড / রেশন কার্ড
- ব্যাঙ্ক পাসবুকের কপি
- পাসপোর্ট সাইজ ছবি
- নিজের সই
- মোবাইল নম্বর
- ইমেল আইডি
কেন এই স্কলারশিপ এত গুরুত্বপূর্ণ?
বর্তমানে উচ্চশিক্ষার খরচ অনেক বেড়ে গিয়েছে। অনেক মেধাবী পড়ুয়া শুধুমাত্র অর্থের অভাবে ভালোভাবে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেন না। সেই সমস্যার সমাধান করতেই এই স্কলারশিপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
বিশেষ করে গ্রামের ছাত্রছাত্রী, নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবার এবং প্রথম প্রজন্মের পড়ুয়াদের জন্য এই প্রকল্প বড় সহায়ক হতে পারে।
টাকা কীভাবে পাওয়া যাবে?
স্কলারশিপের টাকা সরাসরি আবেদনকারীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে। তাই আবেদন করার আগে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আধার লিঙ্ক ও DBT সক্রিয় আছে কি না তা যাচাই করে নেওয়া জরুরি।
রিনিউয়াল কীভাবে করবেন?
যাঁরা আগের বছর এই স্কলারশিপ পেয়েছেন, তাঁদের প্রতি বছর Renewal করতে হবে।
রিনিউয়ালের জন্য সাধারণত লাগতে পারে—
- নতুন সেমিস্টার বা বর্ষের মার্কশিট
- কলেজে ভর্তি প্রমাণ
- উপস্থিতির তথ্য
- ব্যাঙ্ক তথ্য
আবেদন করার সময় কোন ভুলগুলো করবেন না?
অনেক আবেদনকারী ছোট ভুলের কারণে স্কলারশিপ থেকে বঞ্চিত হন। তাই কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে মাথায় রাখা দরকার।
গুরুত্বপূর্ণ টিপস
- নাম ও আধার তথ্য একই রাখুন
- ভুল ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর দেবেন না
- পরিষ্কার স্ক্যান কপি আপলোড করুন
- মোবাইল নম্বর সক্রিয় রাখুন
- শেষ তারিখের আগে আবেদন করুন
শিক্ষার্থীদের জন্য বড় স্বস্তি
শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই স্কলারশিপ আবার চালু হওয়ায় বহু ছাত্রছাত্রী উপকৃত হবেন। কারণ শুধুমাত্র নম্বর নয়, আর্থিক পরিস্থিতিকেও গুরুত্ব দিয়ে এই প্রকল্প তৈরি করা হয়েছে।
বর্তমানে প্রতিযোগিতামূলক শিক্ষাব্যবস্থায় পড়াশোনার খরচ সামলানো অনেক পরিবারের পক্ষেই কঠিন হয়ে পড়ছে। ফলে SVMCM Scholarship আবার চালু হওয়া বহু পরিবারের জন্য স্বস্তির খবর।
স্বামী বিবেকানন্দ মেরিট স্কলারশিপ ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গের মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের জন্য বড় সুযোগ এনে দিতে চলেছে। যাঁদের আর্থিক সমস্যা রয়েছে কিন্তু পড়াশোনায় ভালো ফল করেছেন, তাঁদের জন্য এই প্রকল্প অত্যন্ত উপকারী হতে পারে। তাই যোগ্য পড়ুয়াদের এখন থেকেই সমস্ত নথি প্রস্তুত রাখা উচিত।
সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হলে অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে অনলাইনে আবেদন করা যাবে।
